মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা

প্রথম অধ্যায়

স্থানীয় এলাকা পরিচিতি

.১ পটভূমি

বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের ব্যাপার, একথা এখন আর ঠিক নয়, এটা এখনই আমাদের চারপাশে ঘটছে এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের লক্ষণগুলোএখনই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এটি স্পষ্ট ও বাস্তব ঘটনা যা বাংলাদেশের সামাজিক ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রেমারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। দেশের দক্ষিনাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা, লু-হাওয়া, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে পৌনপৌনিক বন্যা, পাহাড়ীঅঞ্চলে ঢল ও ভূমিধ্বস এবং দেশব্যাপীনদীভাঙ্গন এ পরিস্থিতিকে আরও বিপদাপন্ন করে তুলেছে। এগুলোর ভবিষ্যৎপ্রভাবের অনেক কিছুই এখনও সঠিক ভাবে জানা যায়নি এবং সম্ভাব্য প্রতিকার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও অনিশ্চিত।

দুর্যোগের স্থায়ী আদেশাবলীতে ঝুঁকিহ্রাস ও কন্টিনজেন্সী পরিকল্পনাকে অন্তর্ভুক্ত করে জেলা, উপজেলা, পৌরসভার ও সিটিকর্পোরেশন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেরসুপারিশ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মপরিকল্পনাবিষয়টি সিডিএমপি খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। পরিকল্পনার স্থায়ীত্বশীলতা ও কার্জকারিতা, নিবিড় এবং ফলাফলধর্মী কর্মপদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাটি ৩-৫ বছরের জন্য করা হবে।এদেশের প্রতিটি জেলাই কম বেশি দুর্যোগ আক্রান্ত হয়। এ জেলা গুলোর মধ্যে রাজশাহী জেলা অন্যতম। পদ্মার তীরবর্তী অবস্থান হওয়ায় রাজশাহী জেলা প্রতি বছর বিভিন্ন দুর্যোগে আক্রান্ত হয়।ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নদীভাঙ্গন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই এলাকার প্রধান দুর্যোগ।

রাজশাহী জেলাকে শিক্ষা নগরী বলা হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়, একাধিক ঐতিহ্যবাহীকলেজ (রাজশাহী কলেজ,রাজশাহী নিউ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী মহিলা কলেজ), কারিগরীমহাবিদ্যালয় সহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিকাশে রাজশাহী জেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা এ অঞ্চলের সংস্কৃতির বিশেষ দিক। জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে অবদান রাখছে। এ জেলায় উল্লেখযোগ্য কোন খনিজ সম্পদ নেই। তবে ধারণা করা হয় পদ্মার বালুচরে মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। এক্ষেত্রে আরো অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।রাজশাহী জেলাএকটি অত্যন্ত দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবন এলাকা।ফলে অত্র অঞ্চলের জনসাধারন প্রতিনিয়ত ঝুঁকিগ্রস্থঅবস্থায় জীবনযাপন করে। দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারনা না থাকায় এবং যথাযথ প্রশিক্ষনের অভাবে কার্যকরী ভুমিকা রাখতে না পারায় প্রতি বছর বিভিন্ন দুর্যোগে পতিত হলেও জেলা পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাসপূর্বক দুর্যোগ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিমূলক কোন কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি।এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাটিরাজশাহী জেলার জন্য প্রনয়ণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিহ্রাস করে তাদের আপদকালীন বিপদাপন্নতা নিরসনে সহায়তা করবে। এটি একটি জীবন্ত দলিল হিসেবেই থাকবে এবং নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং আলোচনার প্রকৃতি ও ফলাফলের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।

এই দলিলের ১ম থেকে ৩য় অধ্যায়ে রাজশাহী জেলার সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা, কৌশলপত্রের প্রাসঙ্গিকতা, অন্তর্নিহিতকারণগুলোর রূপরেখা ও জেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্যপ্রভাব, ভিন্ন ভিন্ন অভিযোজন কৌশলের বিবরণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ৩-৫ বছরের কর্মপরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত রূপরেখাদেয়া হয়েছে। ৪র্থ ও ৫ম অধ্যায়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষত সমাজ-রাজনৈতিক কর্মী ও উন্নয়ন কর্মীদের অংশগ্রহনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রাতিষ্ঠানিকিকরনের রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে দরিদ্র ও বিপদাপন্ন জনসাধারনের সুরক্ষা এবং একইসঙ্গেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়’সার্বিক দুর্যোগব্যবস্থাপনা কর্মসূচীর (সিডিএমপি) অধীনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ ঝুঁকি নিরসনকল্পের অংশ হিসেবে একটি বহুমুখী পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা প্রনয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু জেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ বিপদাপন্নতা মোকাবেলায় জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের আগ্রাধিকার নিরূপণ ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে সেহেতু এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলের ধারনা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

.২ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরন পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য মাঠ পর্যায়ের যেকোন কার্যকরী সর্বোত্তম উদ্যোগকে জাতীয়ভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। বর্তমানে দুর্যোগ বাবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় সার্বিক দুর্যোগ বাবস্থাপনা কর্মসূচীর (সিডিএমপি) মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি নিরূপণ ও হ্রাসকল্পে একটি বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ত্রাণ ও পুনর্বাসন নির্ভর দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলা কৌশল পরিবর্তন করে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবেলা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে যার প্রধান প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হল-

·      পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি সম্পর্কে গনসচেতনতা সৃষ্টি ও সকল প্রকার ঝুঁকি হ্রাস করনে পরিবার, সমাজ, ইউনিয়ন প্রশাসন পর্যায়ে বাস্তব সম্মত উপায় উদ্ভাবন করা।

·      স্থানীয় উদ্যোগে যথাসম্ভব স্থানীয় সম্পদ ব্যাবহারের মাধমে ঝুঁকি হ্রাস করন ও ব্যবস্থাদির বাস্তবায়ন পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন।

·      অপসারণ, উদ্ধার, চাহিদা নিরূপণ ত্রাণ ও তাৎক্ষনিক পুনর্বাসন ব্যাবস্থার জন্য স্থানীয়ভাবে প্রনীত পরিকল্পনার অনুশীলন ও প্রয়োগ।

·      একটি নির্দিষ্ট এলাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কৌশলগত দলিল তৈরী করা।

·      দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সেক্টরের (সরকারী, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিও, দাতা সংস্থা ইত্যাদি) জন্য একটি সার্বিক পরিকল্পনা হিসেবে কাজ করবে।

·      দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নির্দেশনা প্রদান করে।

·      সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির দুর্যোগ পরিকল্পনায় আন্তরিক অংশগ্রহন, কার্যকর অংশীদারিত্ব ও মালিকানাবোধ জাগ্রত করা।

 

.৩ রাজশাহী জেলার পরিচিতি

নদী বিধৌত রাজশাহী জেলার প্রকৃতি নানা রকম গাছপালায় সমৃদ্ধ ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত। এ জেলা নদী-খাল-বিল, বিভিন্ন রকমের ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের শোভায় সুসজ্জিত। দেশের উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শহর রাজশাহী মহানগরী। ১৯৪৭ সাল থেকে রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম এখান থেকে শুরু হয়। ফলে মহানগরী বিভাগীয় শহরের মর্যাদা লাভ করে। মূলত রেশম ও নীল ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই রাজশাহী মহানগরীর উৎপত্তি ঘটে।তাই এ মহানগরীঐতিহ্যবাহী রেশম ও শিক্ষা নগরী হিসাবে খ্যাত।অন্যান্ন্য উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে বাঘাশাহী মসজিদ,বাঘামাজার,আড়নী ক্ষ্যাপাবাবার আশ্রম,তাহেরপুর মন্দির (মোহনপুর), পুঠিয়া রাজবাড়ি, তানোরবিহারৈল, সিঁধাইড়ের সুলতানী আমলের ‘মসজিদ ও মাজার’ অন্যতম।

 

চিত্র ১.১: রাজশাহী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

এইজেলার নামকরণ কখন কিভাবে হয়েছিল এটা নিয়ে প্রচুর মতবিরোধ রয়েছে। তবেঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রের মতে “রাজশাহী”রাণী ভবানীর দেয়া নাম।রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রাজশাহী বলা হতো এবং এইচাকলার বন্দোবস্তের কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে আমরা যে রাজশাহী শহরের সঙ্গে পরিচিত, তার আরম্ভ ১৮২৫ সাল থেকে।ইংরেজ শাসনামলে ১৮২৫ সালে জেলা শহর নাটোর থেকে রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়। সরকার ও স্থানীয় জমিদারদের সহযোগিতায় এখানে গড়ে উঠতে থাকে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

..১ জেলার ভৌগলিক অবস্থা

·        জেলাটি কোন বিভাগে অবস্থিতঃ রাজশাহী জেলাটি রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত।

·        চারপাশের জেলা গুলোর নাম:রাজশাহী জেলার দক্ষিণে ভারত, পশ্চিমেচাঁপাইনবাবগঞ্জ, পূর্বে নাটোর এবং উত্তরে নওগাঁ জেলা। বলা বাহুল্য এইপ্রতিবেশী জেলাগুলো পূর্বে রাজশাহী জেলারই অন্তর্ভূক্ত ছিল। এখনো এইজেলাগুলোকে মিলিয়ে ‘বৃহত্তর রাজশাহী জেলা’বলা হয়ে থাকে। 

·        নদী, বাঁধ, রাস্তাঘাট ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ রাজশাহীজেলায়অনেকউল্লেখযোগ্যনদীআছে।এখানেপ্রধাননদীপাদ্মাপ্রবাহিত হয়েছে। এটিহিমালয়েউৎপন্নগঙ্গানদীরপ্রধানশাখাএবংবাংলাদেশের২য়দীর্ঘতমনদী।বাংলাদেশেরগুরুত্বপূর্ণশহররাজশাহীএইপদ্মারউত্তরতীরেঅবস্থিত।পদ্মারসর্বোচ্চগভীরতা১,৫৭১ফুট(৪৭৯মিটার) এবংগড়গভীরতা৯৬৮ফুট(২৯৫মিটার)।পদ্মারপ্রধানউপনদীমহানন্দাওপুনর্ভবা।পদ্মারবিভিন্নশাখানদীরমধ্যেগড়াই, আড়িয়াল-খাঁ, কুমার, মাথাভাঙ্গা, ভৈরবইত্যাদিঅন্যতম।বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম সাইকেল, রিক্সা,ভ্যান, মোটর সাইকেল, সিএনজি, মিশুক, ভটভটি, বাস, ট্রেন ও নৌকা। এখানকারমানুষরাজশাহীমহানগরথেকেপ্রকাশিতদৈনিকসোনালীসংবাদ,দৈনিকনতুনপ্রভাত,দৈনিকসানশাইন,দৈনিকসোনারদেশসহঢাকাথেকেপ্রকাশিতবিভিন্নপত্রিকাপড়েথাকেন।এছারাও এই জেলায় ১টিকরে চিড়িয়াখানা, আঞ্চলিকপাসপোর্টঅফিস, পলিটেকনিক্যালইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্সইনস্টিটিউট, টিচার্সট্রেনিংসেন্টার, সার্ভেইনস্টিটিউট, পোস্টালএকাডেমী, পুলিশট্রেনিংএকাডেমী, উপজাতীকালচারালএকাডেমী, কৃষিগবেষনাকেন্দ্র, ফলগবেষনা কেন্দ্র, টিভিকেন্দ্ররয়েছে এছারা ২২টি সিনেমাহল, ৫টি ফায়ারসার্ভিসওসিভিলডিফেন্সস্টেশনআছে।

·        আয়তন, ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা:বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমে বরেন্দ্র ভূমিরঅর্ন্তগত ফলমূলআর কৃষি সমৃদ্ধ জেলা রাজশাহী।ভৌগলিকদিক দিয়ে রাজশাহী জেলারঅবস্থান২৪.০৭-২৪.৪৩ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশহতে৮৮.১৭-৮৮.৫৮ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশপর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে নদী, খাল, বিল ও জলাশয় আছে। এ জেলার মাটি মূলত ৪ ধরনের ।যেমন বেলে, দো-আঁশ, এঁটেল ও বেলে দো-আঁশ মাটি।এই জেলার অধিকাংশটাই সমতল ভূমি।প্রাকৃতিক বনাঞ্চল না থাকা সত্ত্বেও চমৎকার উর্বর ভূমি এবং প্রাকৃতিকবিন্যাস জেলাকে সুন্দরতর করে তুলেছে।বৃহৎ আকারে কোন জরিপ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় কোন খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য অনেক এলাকার মতো এই উপজেলায়ও আর্সেনিক এর প্রভাবলক্ষ্য করা গেছে।

১.৩.২ আয়তন

২০১১সালেরআদমশুমারীঅনুযায়ী রাজশাহী জেলার মোটআয়তন ২৪২৫.৩৭বর্গ কিলোমিটার। রাজশাহী জেলায়৯টিজেলা এবং ৪ টি থানা আছে, থানা ও জেলাভিত্তিক  ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড এরনামএখানে উল্লেখ করা হল।

টেবিল ১.১:উপজেলাও থানাভিত্তিক ইউনিওন ও ওয়ার্ডেরনাম।

জেলানাম ও জিইও কোড নম্বর

উপজেলা/ থানার নাম ও জিইও কোড নম্বর

ইউনিয়নের নাম

রাজশাহী (৮১)

বাঘা উপজেলা (১০)

আড়ানি, বাজুবাঘা, বাউসা, গারগারি, মানিগ্রাম, পাকুরিয়া।

পবা উপজেলা  (৭২)

বড়গাছি, দামকুরা, দর্শন পাড়া, পারিলা, হারাগ্রাম, হারিয়ান, হরিপুর, হুজুরিপাড়া।

গোদাগাড়ী উপজেলা (৩৪)

গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পাকড়ী, রিশিকুল, গোগ্রাম, মাটিকাটা, দেওপাড়া, বাসুদেবপুর, চর আষাড়িয়াদহ।

চারঘাট উপজেলা (২৫)

ইউসুফপুর, শলুয়া, সরদহ, নিমপাড়া, চারঘাট, ভায়ালক্ষিপুর।

দুর্গাপুর উপজেলা (৩১)

দেলুয়াবাড়ি, ধর্মপুর, ঝালুকা, জয়নগর, কিসমতগনকৈড়, মারিয়া, নওপাড়া

মোহনপুর উপজেলা (৫৩)

বাকশিমলা, ধুরাইল, গাছিগ্রাম, জাহানাবাদ, মাউগাছি, রায়ঘাটি।

বাগমারা উপজেলা (১২)

আউছপাড়া, বড়বিহানালি, বসুপাড়া, দ্বিপপুর, গলাকান্দি, গবিন্দপাড়া, হামির কুস্তান, ঘিকরা, জগিপাড়া, কাছারি কয়ালিপাড়া, মারিয়া, নরদাস, সোনাডাঙ্গা, শ্রীপুর, শুভাডাঙ্গা, গনিপুর।

পুঠিয়া উপজেলা (৮২)

বানেশ্বর, বেলপুকুরিয়া, বালুকগাছি, জেওপাড়া, পুঠিয়া, শীলমারিয়া।

তানর উপজেলা (৯৪)

বাধাইর, চান্দুরিয়া, কালাম, কামারগাঁ, পঞ্চদার, সারাঞ্জাই,তালান্দা।

শাহামখদুম থানা (৯০)

ওয়ার্ড নম্বর- ১৭ ও ওয়ার্ড নম্বর- ১৮ এর অংশ বিশেষ।

মতিহার থানা (৪০)

ওয়ার্ড নম্বর-২৮,ওয়ার্ড নম্বর-২৯, ও ওয়ার্ড নম্বর-৩০।

বোয়ালিয়া থানা (২২)

ওয়ার্ড নম্বর-৯, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৯, ২০,  ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, এবং ১০, ১৪, ১৮ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এর অংশ বিশেষ।

রাজপাড়া থানা (৮৫)

ওয়ার্ড নম্বর- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, এবং ১০ ও ১৪ এর অংশ বিশেষ।

  তথ্য সূত্রঃ আদম শুমারি, ২০১১ এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিস ২০১৪

..৩ জনসংখ্যা

রাজশাহীজেলার মোট জনসংখ্যা ২৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৯৭জন। এর মধ্যে ১৩ লক্ষ ৯ হাজার ৮৯০ জন পুরুষ এবং ১২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৩০৭ জন নারী। জনসংখ্যারঘনত্ব ১০৭০ জন প্রতিবর্গকিঃমিঃ।জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার২.৫৩%।জেলাভিত্তিক জনসংখ্যার পরিসংখ্যান এখানে উল্লেখ করা হল:

টেবিল ১.২: ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভিত্তিক পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধি, পরিবার সংখ্যা।

উপজেলা/ থানা

পুরুষ

মহিলা

শিশু%

(০-১৭)

বৃদ্ধ %

(৬০+)

প্রতিবন্ধি(%)

মোট জনসংখ্যা

পরিবার/খানা

বাঘা

৯২০১০

৯২১৭৩

৩০.২

৮.৪

১.৯

১৮৪১৮৩

৪৬৭১১

পবা

১৫৯৪৫২

১৫৪৭৭৪

৩১.২

৬.৭

১.৫

৩১৪১৯৬

৭৬৬২২

গোদাগাড়ী

১৬৬২৬০

১৬৪৬৬৪

৩৫.১

৬.৮

১.৭

৩৩০৯২৪

৭২১৮৬

চারঘাট

১০৪১৩৮

১০২৫৫০

২৯.৩

৭.৩

১.৬

২০৬৭৮৮

৫১৭৮৩

দুর্গাপুর

৯৩৫৫১

৯২২৯৪

২৭.৮

৮.১

১.৫

১৮৫৮৪৫

৪৬৭৭১

মোহনপুর

৮৫২৩৬

৮৪৭৮৪

২৯.২

৭.২

১.৬

১৭০০২১

৪৩৯৮৪

বাগমারা

১৭৭১৫৭

১৭৭৫০৭

২৮.১

৮.৫

১.৭

৩৫৪৬৬৪

৯৪০৫০

পুঠিয়া

১০৫০৭১

১০২৪১৯

২৮.৫

৭.৮

১.৬

২০৭৪৯০

১৯২৬৩

তানোর

৯৪০৪১

৯৭২৮৯

৩১.০

৬.৯

১.৭

১৯১৩৩০

৪৭৪২৫

শাহামখদুম থানা

১৪৭৮৩

১৪৩২০

২৭.৩

৫.৯

১.০

২৯১০৩

৬৮৩২

মতিহার থানা

৩৩৪৪৬

২৮৭২৬

২৪.৫

৪.৯

১.২

৬২১৭২

১২৩৭৪

বোয়ালিয়া থানা

১৭৭১৫৭

১৭৭৫০৭

২৩.০

৬.১

১.২

২২১১৬৩

৪৯৮৬৬

রাজপাড়া থানা

৭০৩৪৬

৬৬৯৭২

২৬.৬

৬.১

১.০

১৩৭৩১৮

৩০৪১৩

মোট

১৩০৯৮৯০

১২৮৫৩০৭

 

.

.

২৫৯৫১৯৭

৬৩৩৭৫৮

তথ্য সূত্রঃ আদম শুমারি, ২০১১

                                                               

.৪ অবকাঠামো ও অ-অবকাঠামো

রাজশাহী মুলতঃ কৃষি প্রধান জেলা।এখানকার সিংহভাগ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। তাই এখানে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান। জেলার সকল উপজেলার অধিকাংশ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন। জেলায় বেশ কয়েকটিক্ষুদ্রওকুটির শিল্প এবং বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে হাঁস-মুরগীর খামার, গবাদিপশুরখামার, অটো রাইস মিল, ছাপা খানা, ঝালাই কারখানা,কোল্ডস্টোরেজ,ইট-ভাটাএবং বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্প অন্যতম।এছাড়াও শিল্পো-কলকারখানা,বরফকল, আটাকল, স’মিল ইত্যাদি রয়েছে। ব্যাংক, বীমা, বিমান বন্দর, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও পেট্রোল পাম্পসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ব্যবসা বাণিজ্যের বিস্তার লাভ করেছেবহুলাংশে।

 

১.৪.১ অবকাঠামো   

বাঁধ

 

চিত্র১.২:শহর রক্ষা বাঁধ।

রাজশাহী জেলা পদ্মা নদীর তীরে অবস্তিত হওয়ায় নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে জেলাকে রক্ষা করার জন্য বাঘা, চারঘাট, পবা ও গোদাগাড়ী মূলত এই চারটি উপজেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চলকে দীর্ঘ বাঁধ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার মদ্ধে পদ্মার তীরবর্তী এই ৪টি উপজেলা অত্যন্ত দুর্যোগ-ঝুঁকি প্রবন। নদীভাঙ্গন ও বন্যার তীব্র ক্ষতির হাত থেকে রাজশাহী জেলাকে রক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য অংশগুলি তুলে ধরা হল-  বাঘা উপজেলায় ১৬ কিমি বাঁধ রয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট, প্রস্ত নিচে ২৫ ফুট এবং উপরে ১২ ফুট। বাঁধটির অবস্থান মীরগঞ্জ থেকে গড়গড়ি পর্যন্ত।যা বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া এবং গড়গড়ি এইতিনটি ইউনিয়নকে রক্ষা করছে।চারঘাট উপজেলাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ৪৮ কিমি বাঁধ রয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ১৩ ফুট এবং প্রস্ত নিচে ২০ ফুট এবং উপরে ১২ ফুট। বাঁধটি ইউসুফপুর ইউনিয়নের সাহাপুর বটতলা থেকেসরদহ ইউনিয়ন হয়েচারঘাট ইউনিয়নের রাওথা বাজার পর্যন্ত অবস্থিত।  পবাউপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নেরজোহাখালী নদী সংলগ্নএলাকায়প্রায় ৬ কিমি বাঁধআছে। বাঁধটি নওহাটা পৌরসভা পর্যন্ত অবস্থিত। হুজরীপাড়া ইউনিয়নেরশির্শাপাড়া হতে মোল্লারডাইং ভায়া কালিতলার বিল পর্যন্তখালের ধার দিয়ে এবং কুমড়া পুকুর হতে সরমংলা ভায়া ভাগাইল এর মধ্য দিয়ে পুরাখালি পর্যন্তবাঁধ আছে। হরিপুর ইউনিয়নেরপদ্মা নদীর ধার দিয়েবশরী হয়ে গহমাবনা পর্যন্ত ১৯ কিমি বাঁধ বিদ্যমান। হড়গ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ধার দিয়ে সাবেক ১ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর ও বালিয়া গ্রামে বাঁধ আছে। বড়গাছী ইউনিয়নেরবারনই নদীর ধার দিয়ে মথুরা হতে কালুপাড়া পর্যন্ত ১৭ কিমি বাঁধ আছে। হরিয়ান ইউনিয়ন ২০১৩ সালে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চর খিদিরপুর ও চর খানপুরে বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ তৈরী করা হয়। বাধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিমি। কাঁটাখালী পৌরসভার চরশ্যামপুর মিজানের মোড় হতে নগরপাড়া পর্যন্ত বাঁধ আছে।নওহাটা পৌরসভার নওহাটাগরুরহাটথেকেনদীরধারদিয়েপুঠিয়াপাড়াবাগধানীব্রীজপর্যন্ত৬কিমিবাঁধ আছে। বাঁধটি হুজরীপাড়া ইউনিয়নের বারনই নদী সংলগ্ন বাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া নওহাটা হতে বাগধানী পর্যন্ত এবং দুয়ারী হতে পাকুরিয়া পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় বাঁধ আছে। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে গোদাগাড়ী উপজেলাকে রক্ষা করার জন্য ৫৯ কিমি বাঁধ রয়েছে। যার উচ্চতা প্রায় ১৪-১৫ ফুট এবং প্রস্ত নিচে ২৫ ফুট এবং উপরে ১৫ ফুট। গোদাগাড়ী উপজেলার আলোকছত্র কচুয়া থেকে রিশিকুল মান্দই হয়ে ভানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিমি, দেওপাড়া থেকে সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত ১৪ কিমি, মাটিকাটার বিদিরপুরে ২ কিমি, গোদাগাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাকনহাট পর্যন্ত ৮ কিমি, কাকনহাট পৌরসভার সারাংপুর থেকে প্রেমতলী পর্যন্ত ৪ কিমি এবং বাসুদেবপুর থেকে কাজিপাড়া পর্যন্ত ৫কিমি বাঁধ রয়েছে।

স্লুইচগেট

রাজশাহী জেলার কৃষি ও জনজীবনের উপর পদ্মা-মহানন্দা সহ আরও অনেক নদ-নদীর বিস্তীর্ণ প্রভাব রয়েছে। যার ফলে বন্যা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুকির প্রভাব প্রসমনে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন অত্র অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জেলার প্রধান ও ক্ষরধারা নদী পদ্মার তীরবর্তী চারটি উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্ল্বুইচগেট গুলোর তথ্য তুলে ধরা হল।

 

চিত্র১.৩:স্ল্বুইচ গেট।

বাঘা উপজেলাতে মোট ৩টি স্ল্বুইচ গেট রয়েছে। স্ল্বুইচ গেটগুলো মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া এবং গড়গড়িতে অবস্থিত। চারঘাট উপজেলায়মোট ৮টি স্লুইচগেট রয়েছে।স্লুইচগেটগুলো ইউসুফপুর ইউনিয়নের সাহাপুরে ১টি ও ইউসুফপুর সদরে ১টি স্লুইচগেট আছে। সরদহ ইউনিয়নের ধর্মহাটায় ১টি স্লুইচগেট আছে। নিমপাড়া ইউনিয়নের নন্দনগাছি, পুটিমারী ও কালিহাটিতে ১টি করে মোট ৩টি স্লুইচগেট আছে। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পুটিমারী বাজারের পশ্চিমে বড়াল নদী সংলগ্ন ১টি স্লুইচগেট আছে। চারঘাট পৌরসভার মুক্তারগাংপাড়ায় ১টি স্লুইচগেট আছে। এছাড়া শলুয়া ও চারঘাট ইউনিয়নে কোন স্লুইচগেটনাই। পবা উপজেলায় মোট ৩০ টি স্লুইচ গেট আছে। এর মধ্যে নওহাটা পৌরসভায় ১০টি,কাটাখালি পৌরসভায় ২টি, দর্শন পাড়া ইউনিয়নে ৩টি,হুজরীপাড়া ইউনিয়নে ২টি, দামকুড়াইউনিয়নে ৩টি, হরিপুর ইউনিয়নে ৪টি, পারিলা ইউনিয়নে ২টি, বড়গাছি ইউনিয়নে ১টি,হড়গ্রাম ইউনিয়নে ১টি এবং হরিয়ানইউনিয়নে৩টি স্লুইচগেট আছে।গোদাগাড়ীউপজেলায় মোট ৪২টি স্লুইচগেট আছে। এর মধ্যে গোগ্রামইউনিয়নে ৩টি, মাটিকাটা উইনিয়নে৩টি, বাসুদেবপুরইউনিয়নে ৩টি,মোহনপুরইউনিয়নে ১টি,রিশিকুল ইউনিয়নে ৮টি,পাকরী ইউনিয়নে ২টি, দেওপাড়া ইউনিয়নে ২টি, চর আষাড়িয়াদহইউনিয়নে৬টি, গোদাগাড়ী ইউনিয়নে ৬টি, কাকনহাট পৌরসভায় ৫টিএবংগোদাগাড়ী পৌরসভায় ৩টি স্লুইচ গেট আছে।এই স্ল্বুইচগেট গুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে পানি সরবরাহ এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। রাজশাহী জেলা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় স্ল্বুইচ গেটগুলো নদী সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি আপদ অত্র এলাকায় নতুন নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আপদগুলো দুর্যোগে পরিনত হচ্ছে এবং তাদের তীব্রতা ও মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় স্ল্বুইচগেটগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সর্বোচ্চ ব্যবহার অত্র এলাকার জনগণের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অত্যন্ত গুরুত্ব-পূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে স্থানীয় জনগন মনে করে।

সেচ ব্যবস্থা

নদী বিধৌতরাজশাহী জেলারবেশির ভাগ মানুষ কৃষিজীবিহওয়ায় বিভিন্ন মৌসুমে সেচের প্রয়োজনঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার হাত থেকে জেলার কৃষিখাত, মৎস্যখাত রক্ষার জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরউল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। “বৃষ্টির পানি সংরক্ষন ও সেচ প্রকল্প” এর মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পাম্পের মাধ্যমে খালে পানি ফেলে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা, কম পানি প্রয়োজন এমন ফসল (ছোলা, টমেটো, ডাল জাতীয়)এবং অধিক পরিমান পানি ধরে রাখে এমন ফসল (ধইঞ্চা)চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করাএবং পুকুর ও খালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করাইত্যাদি। বিএমডিএবিভিন্নভাবেউপজেলার কৃষিখাতকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করে যাচ্ছে। রাজশাহী জেলায় সেচযোগ্য জমির পরিমান ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৭৬৬ হেক্টর। এখানে সেচের কাজ বিভিন্ন জলাশয় ও গভীর নলকূপের উপর নির্ভরশীল। 

 

চিত্র১.৫: একটি বাজার।

হাট ও বাজার

রাজশাহী জেলায় অনুমদিত ও অ-অনুমোদিত মিলিয়ে মোট ১৮১টি হাট বসে যা জেলাবাসীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির যোগান দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ করে থাকে। অনুমোদিত হাটগুলির মধ্যে বাঘায় ২৩টি, গোদাগাড়ীতে ২৬টি, তানরে ১৬টি, দুর্গাপুরে ১৬টি, মোহনপুরে ১৪টি, বাগমারায় ২২টি, চারঘাটে ১৬টি, পবায় ২০টি, গোদাগড়ীতে ৯টি এবং পুঠিয়ায় ৮টি হাট-বাজার রয়েছে।

১.৪.২সামাজিক সম্পদ

একটি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সম্পদের সমৃদ্ধি সেই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। রাজশাহীজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রার্থনাস্থান, খেলার মাঠ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ,ডাকঘর, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, বনায়ন প্রভৃতি সামাজিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়। অত্র এলাকায় অবস্থিত এনজিও সমূহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাদেরকেও সামাজিক সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   

ঘরবাড়ি

 

চিত্র১.৬:চর অঞ্চলে বাঁশ, খড়ও মাটিদিয়ে তৈরিঝুপড়িঘর।

রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা ও ৪টি থানায় অবস্থিতবেশির ভাগ ঘরবাড়ি অস্থায়ী যেগুলো বাঁশ, টিন ও খড় দিয়েতৈরী।এছাড়াও পাকাএবং আধাপাকাঘরবাড়ি এই জেলায় তুলনামূলক ভাবে কমহলেও বেশ দেখতে পাওয়া যায়। তবে চর অঞ্চলে ঝুপড়ি ঘর বেশী দেখা যায়। সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাকা ঘর বাড়ি তৈরির প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারির তথ্য অনুসারে রাজশাহীতে ৫৫.২% পরিবার কাচা ঘরে বসবাস করে। এছাড়া ১২.৮% পরিবার পাকা, ২৭.৮% পরিবার সেমিপাকা এবং ৪.২% পরিবার ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে।

পানি

রাজশাহী জেলাবাসী তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয়, দৈনিক ব্যবহার্য কাজে যে পানি ব্যবহার করে থাকে তার প্রধান উৎস মূলতঃনলকূপ। তবে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে এবং ক্রমেই বৈরী/ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার পূর্ব লক্ষনগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় আর্সেনিকের আতংক বিরাজ করায় নিরাপদ পানির উৎস কমতে শুরু করেছে। সাধারনত খরা মৌসুমে এই এলাকার পানির স্তর নীচে নেমে যায়। ফলে খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়। এ সময় এলাকাবাসী গোসল, থালা-বাসন ধোয়া, গবাদীপশু গোসল করানো সহ অন্যান্য কাজে সাপ্লাই পানি, পুকুর, খাল, বিল ও নদীর পানি ব্যবহার করে থাকে। তবে যথাযথ পরিচর্যার অভাব, অসচেতনতা, কৃষি কাজে অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং পুকুর ও খাল-বিল পুনঃখনন না করায় এ পানি দিন দিন দূষিত হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা ও ৪টি থানায় মোট ৮৮.৫% পরিবারের মানুষ খাবার পানির উৎস হিসেবেনলকূপের পানি,৮.১% পরিবারের মানুষ ট্যাপের পানিএবং৩.৪%মানুষঅন্যান্যউৎস যেমন পুকুর, খাল/ খাড়ি, নদী ইত্যাদি থেকে পানিসংগ্রহ ও ব্যবহার করে থাকে।এছাড়া বাঘা, চারঘাট, মোহনপুর, তানর, বাগমারা, গোদাগাড়ী সহ সকল উপজেলাতেই বিশুদ্ধ পানির বিকল্প উৎসের পরিমান অত্যন্ত নগন্য। ফলে খরা মৌসুমে যখন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায় এবং নলকূপের স্বাভাবিক পানির সরবরাহ ব্যাহত হয় তখন অত্র এলাকার জনসাধারণ বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী ও প্রসুতি মা এবং গবাদি পশুপাখি ঝুঁকিগ্রস্থ অবস্থায় পতিত হয়। বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এখন থেকেই যদি বিশুদ্ধ পানির বিকল্প ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা না হয় এবং অদূর ভবিষ্যতে যদি ভয়ংকর আর্সেনিকের বিস্তার ঘটে তাহলে রাজশাহী জেলায় মানবিক বিপর্যয় ঘটবে সেকথা সহজেই অনুমেয়।

পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা

রাজশাহী জেলার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার আরওউন্নতি সাধন প্রয়োজন। পয়ঃনিস্কাশনের ক্ষেত্রে রাজশাহী জেলার অগ্রগতি আশানুরূপ বলা যায় না। এখানেস্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থা থাকলেও অনেক জায়গায়ইঅ-স্বাস্থ্যকরপয়ঃনিস্কাসন ব্যাবস্থা শিশু-বৃদ্ধ সহ আপামর জনগনের স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারন।রাজশাহীজেলাজনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষে মান সম্মত ল্যাট্রিন নির্মানের জন্য নির্ধারিতজনবল দ্বারা রিং-স্লাব তৈরী কার্যক্রম চালু রেখেছে। সরকার নির্দ্ধারিত/সুলভ মূল্যে বিক্রয় করে, হত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে স্যানিটারী ল্যাট্রিন বিতরন করে।মানসম্মত ল্যাট্রিন সেট নির্মানের জন্য ব্যক্তি মালিকানায় স্থাপিত উৎপাদনকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেআসছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্বল্পমূল্যে স্যানিটারী ল্যাট্রিন স্থাপনের কৌশল ও রক্ষনাবেক্ষন বিষয়ে জনগনকে ধারণা দিয়ে থাকে। এছাড়াও দপ্তরীয় জনবল দ্বারা জনগনের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, হাত ধোয়া ইত্যাদি বিষয়ে জনসাধারনকে সচেতন করেআসছে।

অন্যান্য এলাকায় পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও চর অঞ্চলে পয়ঃনিস্কাশনের অবস্থা বড়ই নাজুক। জেলা/উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ব্যক্তিগত উদ্যোগ, এনজিও ও বিভিন্ন দাতা সংস্থাদের সহায়তায় রিং-স্লাব বিতরণ কর্মসূচী গ্রহন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা ও ৪টি থানায়২৪.৩% পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত (ওয়াটার সীল্ড), ২৮.৬% পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত (নন ওয়াটার সীল্ড) এবং ৩৭.৯% অস্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এছাড়া ৯.২% পরিবারের পয়ঃনিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

মুসলিম অধ্যুষিত রাজশাহী জেলার ৪টি থানা এবং ৯ টি উপজেলায় সকল ধর্মেরধর্মাবলম্বী মিলেমিশে বসবাস করে। এই জেলায় মোট১০৪০৫টি মসজিদ,১০০২১টি মন্দিরএবং ১১৪টিগীর্জারয়েছে,যেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যাবহার হয়ে থাকে। বাঘা উপজেলায় ২৪৩টিমসজিদ, চারঘাটে ৩৪১টি, পবায় ৪৮০টি, গোদাগাড়ীতে ৫৬৫টি, পুঠিয়ায় ২৩৩টি মসজিদ, ১৪টি মন্দির; দুর্গাপুরে ৪৫৬টি মসজিদ, ২১টি মন্দির; মোহনপুরে ৪০২টি মসজিদ, ২৪টি মন্দির এবং তানোরে ৩৫৬টি মসজিদ, ২২টি মন্দির, ১৬টি গির্জা ও ১টি প্যাগোডা রয়েছে। পদ্মার উপকূলবর্তী এই প্রাচীন নগরীতে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘‘শাহী মসজিদ’’ যার শিলালিপি,কারুকাজ ভ্রমনপ্রেমী মানুষদের আকৃষ্ট করে।বহুযুগ ধরে স্থানটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং সর্বসাধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরী ৯৩০) হোসেন শাহ এর পুত্র নুসরাত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন।যার প্রতিকৃতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পঞ্চাশ টাকার নোটে শোভা পাচ্ছে।মসজিদের গাঁ ঘেষে উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল এক দীঘি।যা মসজিদটির সমমাময়িক।শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে বহু অতিথি পাখি এই দীঘিতে ভীড় জমায়।

মাদূর্গার পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভাব স্থল রাজশাহীর তাহেরপুর। ৮৮৭ বঙ্গাব্দে (১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে) কংস নারায়ণের আহবানে মাদুর্গা সাধারণ্যে আবির্ভূত হন। এই সাহনে শরৎকালে আশ্বিন মাসের মহা ষষ্ঠীতিথিতে দেবীর বোধন হয়।এই পুণ্যভূমি থেকেই শারদীয়দুর্গোৎসবের সূচনা।

 

চিত্র ১.৭: রাজশাহী জালার ঐতিহ্য বাঘা শাহী মসজিদ।

চিত্র ১.৮: রাজশাহী জালার ঐতিহ্য তাহেরপুর মন্দির

প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন ‘বিহারৈল’  কুঠিপাড়ার ‘নীলকুঠি’ মাদারীপুরের ‘পাগলা শাহ’র মাজার’ গোলাপাড়ার  ‘বধ্যভূমি’সিঁধাইড়ের সুলতানী আমলের  ‘মসজিদ ও মাজার’ তানোরউপজেলায় অবস্থিত।

ধর্মীয় জমায়েত স্থান (ঈদগাঁহ্)

রাজশাহী জেলায় ধর্মীয় জমায়েত স্থান হিসেবে ৪৯১টিঈদগাহ ময়দান রয়েছে।এর মধ্যে বাঘায় ৭৩টি, চারঘাটে ৩০টি, পবায় ২৭টি, গোদাগাড়ীতে ২২৫টি, পুঠিয়ায় ১১টি, দুর্গাপুরে ১২৫ টি, মোহনপুরে ৯২টি, তানোরে ১০৬টি এবং বাগমারায় ১৪৯টি উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ পাঠাগার

শিক্ষা ও ঐতিহ্যের দিক দিয়ে রাজশাহী জেলার অবস্থান অত্যন্ত চমকপ্রদ।১৮২৮ সালে এখানে বোয়ালিয়া ইংলিশ স্কুল নামে প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। অনেকে মনে করেন, এটাই বাংলাদেশের সর্ব প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে বেশ কয়েকটি মান সম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এখানে সরকারী, বেসরকারী বিদ্যালয়য়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, মাদ্রাসা বিদ্যমান। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।জেলার সাক্ষরতার হার ৫৩%।এখানে৭৪টি কলেজ, ৪০৯টিমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪৩টিনিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫৫৯টিসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২১টিরেজিস্টার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২১টি মাদ্রাসা, ২টি পাবলিকবিশ্ববিদ্যালয়, ১টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ২টিমেডিকেল কলেজবিদ্যমান আছে।

 

চিত্র ১.৯:ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।

উল্লেখ্য অতীতে বিভিন্ন সময়ে এলাকা ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ছিল অপ্রতুল। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে এবং বাকি গুলোর অবস্থা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত আসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেগুলোতে ধারনক্ষমতা অনেক কম। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ একতলা হওয়াতে মানুষ ও গবাদি পশুকে পৃথক রাখা সম্ভব হয় না। অতীতে এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহপ্রত্যক্ষ ভাবে দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের আশ্রয় স্থল হিসেবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়নি। উল্লেখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বসতি এলাকার কাছাকাছি খোলা জায়গা বা মাঠ সংলগ্ন উঁচু ও অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় গড়ে ওঠে। যেখানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সারাবছর যাতায়াত করে থাকে এবং সকলের কাছে পরিচিত স্থান। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ মনে করে যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বসতি এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত এবং এখানে যাতায়াতের পথ সবার পরিচিত সুতরাং ভবিষ্যতে আকস্মিক দুর্যোগে তাৎক্ষণিক ভাবে প্রাথমিক আশ্রয়স্থল হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে যেগুলো দুর্যোগ সহনশীল সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। অবকাঠামোগত দূর্বলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হলে, নিরাপদ পানি, নারীপুরুষ ভেদে পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাঠ উঁচু করে গবাদিপশুর জন্য নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এরফলে দুর্যোগের সময় মানুষ যেমন অল্প সময়ে আশ্রয়স্থলে যেতে পারবে তেমনই অস্থায়ী সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য সেবা

আবকাঠামোগত দিক দিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের অবস্থান অনেক উঁচুতে। অন্যান্য অনেক জেলা থেকে মানুষ এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। রাজশাহী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ১টি আণবিক চিকিৎসা কেন্দ্র, ৯টিউপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৩৯টি পারিবারিক কল্যাণ কেন্দ্র, ৩২টি রুরাল ডিসপেনসারী, ১টি টিভিহাসপাতাল, ১টি হেলথ টেকনোলজী ইনস্টিটিউটসর্বক্ষণ সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

জেলার নাম

উপজেলা  স্বাস্থ্যকমপে­ক্

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ওপরিবার কল্যাণ কেন্দ্

কমিউনিটি ক্লিনিক

ডায়াগনষ্টিক সেন্টার

স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্র

বাঘা

১ টি

৪ টি

২০ টি

৩ টি

১ টি

চারঘাট

১ টি

১ টি

২৪ টি

-

-

পবা

১ টি

৯ টি

--

-

-

দুর্গাপুর

১ টি

৩ টি

১৯ টি

-

২ টি

তানোর

১ টি

২ টি

৮ টি

-

৫ টি

মোহনপুর

১ টি

৪ টি

১৮ টি

-

১ টি

পুঠিয়া

১ টি

-

১৪ টি

-

৮ টি

গোদাগাড়ী

১ টি

৮ টি

-

২ টি

-

বাগমারা

১ টি

১০ টি

৩৮ টি

-

৬ টি

টেবিল ১.৩: উপজেলাভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রের পরিসংখ্যান।

তথ্য সূত্রঃ মাঠ পরিদর্শন, ২০১৪

এছারাও রাজশাহীজেলার ৪টি উপজেলার চর অঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বাস। অথচ মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবার অভাবে এখানে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার তুলনা মূলক ভাবে অনেক বেশি। উল্লেখ্য একদিকে যেমন চর অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না, অন্য দিকে তেমনই কবিরাজ, ঝাড়-ফু, লতা-পাতার উপর চর অঞ্চলের মানুষের অগাধ আস্থা থাকার ফলে গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনতে আনতে পথেই অনেকের মৃত্যু ঘটে। চরের অধিবাসীদের সাধারণ ও জটিল রোগের চিকিৎসার  জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়, যা প্রয়োজনের সময় অনেক অর্থ ও সময় সাপেক্ষ। এলাকাবাসীর মতে বন্যার সময় ও বর্ষাকালে সাপের কামড়ে অনেক লোক মারা যায়। তাছাড়া ঘরের মাচান থেকে পড়ে অনেক শিশু মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত বিধায় বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম চর অঞ্চলে বেশি দেখা যায়।

ব্যাংক

১১ টি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ, পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ,আল আরাফাহ ইসলামী ইন্সুরেন্স কো অপারেটিভ লি:, আল বারাকা লাইফ ইন্সরেন্স লিঃ,ইসলামী ব্যাংক ইন্সুরেন্স, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ, জীবন বীমা কর্পোরেশণ, বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ, আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ,পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃপরিচালনা করছে।

পোষ্ট অফিস/সাব পোষ্ট অফিস                                                                                         

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ডাক বিভাগেও আধুনিকতার ছোঁয়া বিদ্যমান। রাজশাহী জেলায় মোট ৫৫টি পোষ্ট অফিস/সাব পোষ্ট অফিস রয়েছে।

ক্লাব/সাংস্কৃতিক কেন্দ্র/বিনোদন

রাজশাহী জেলায়২৫১টি ক্লাব রয়েছে। এর মধ্যে চারঘাটে ১১টি, বাঘায় ৪৮টি, গোদাগাড়ীতে ৪৬টি, পুঠিয়ায় ২৩টি, দুর্গাপুরে ১৯টি, বাগমারায় ৩১টি,  মোহনপুরে ৩৪টি,  তানোরে ২৭টি ক্লাব  রয়েছে। 

যোগাযোগ ও পরিবহনের মাধ্যম

 

চিত্র ১.১০: রাজশাহী রেলষ্টেশন।

রাজশাহীর অধিকাংশ যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়কপথের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর রেলপথে যোগাযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী জেলা উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয়  জেলা সদর। রাজশাহী জেলা থেকে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। রাজশাহীর সাথে রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাথে রয়েছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ। ‌এছাড়া জেলার সকল জেলা এবং  ইউনিয়নের সাথেই সড়ক যোগাযোগ আছে। পদ্মা নদীর নাব্যতা না থাকায় নৌপথে ঢাকার সাথে রাজশাহীর যোগাযোগ বর্তমানে নেই। আকাশ পথে ঢাকার সাথে রাজশাহীর বিমান যোগাযোগ বর্তমানে বন্ধ আছে। রাজধানীর সাথে রাজশাহীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভাল।সড়ক ও নৌ পথছারাও বাই-সাইকেল,মটর সাইকেল, ভ্যান গাড়ী,মটর গাড়ী,বৈঠা নৌকা,ইঞ্জিন চালিত নৌকায় জেলার সব জায়গায় চলাচল করা যায়।

বনায়ন

রাজশাহী জেলায় সামাজিক বনায়নের আওতায় ১০ হেক্টরবনায়ন রয়েছে।রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা নিয়ে গঠিত। এ বন বিভাগের আওতায় ০৮টি সামাজিক বনায়ন ও নার্সারী প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা এসএফএনটিসি, ০২টি রেঞ্জ ও ২৩টি জেলা নার্সারী কেন্দ্র বা এসএফপিসি রয়েছে। ১৯৬১ সনে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের সুচনালগ্নে জনসাধারনের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরনের লক্ষেআঞ্চলিক পর্যায়ে নার্সারী স্থাপনের মাধ্যমে এ বন বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে কমিউনিটি ফরেষ্ট্রী সেক্টর প্রকল্প চালু হলে আশির দশকে এ অঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ,নার্সারীতে চারা উত্তোলন, প্রশিক্ষনও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বহুমাত্রিক রূপ লাভ করে। বর্তমানে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। অধিকতরজনগণেরস্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম এখন প্রতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

১.৪.৩আবহাওয়া ও জলবায়ু

এই উপজেলার বার্ষিক বৃষ্টিপাত গড় ৪৫ ইঞ্চির নীচে। এতদসত্বেও এই হার পরিবর্তনশীল অর্থাৎ কিছুটা উঠানামা করে। চরম উষ্ণ আবহাওয়া, মাত্রাধিক্য আর্দ্রতা, মাঝারিবৃষ্টিপাত এবং ঋতু বৈচিত্র্যতার সমারহের কারনে এই সহানকে গ্রীষ্মীয় মৌসুমী এলাকার আদর্শ সহান বলে আখ্যায়িত করলেও অত্যুক্তি হবে না। গ্রীষ্মের সুচনা হয় এপ্রিল এবং মে মাসের দিকে। তখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এবং সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৬৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট থাকে। এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলতে এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের প্রথমার্ধেরতাপমাত্রাকে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানুয়ারী মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গড় ৭৬ ডিগ্রী ফারেন হাইট এবং সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী ফারেনহাইট।

বৃষ্টিপাতের ধারা

বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী অঞ্চলে বিগত ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৩১ বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণের রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায় ১৯৭৬-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই দশকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১৯৮১ সালে ২২৪১ মিলিমিটার। এই দশকে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ১৬৩৯মিলিমিটার। ১৯৮৬-১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই দশকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের গড় রেকর্ড করা হয় ১৯৯৩ সালে ১৬২৩ মিলিমিটার এবং সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত হয় ১৯৯২ সালে ৮৪৩ মিলিমিটার। এই দশকে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ১৩৯২.৫ মিলিমিটার। আবার ১৯৯৬-২০০৫ সাল পর্যন্ত এই দশকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের গড় রেকর্ড করা হয় ১৯৯৭ সালে ২০৬২ মিলিমিটার এবং সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত হয় ১৯৯৬ সালে ১২৬৯ মিলিমিটার। এই দশকে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ১৫৮৫.৩ মিলিমিটার। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ১৯৯৬-২০০৫ দশকের বৃষ্টিপাত ১৯৭৬-১৯৮৫ দশকের চেয়ে ৪৩.৭ মিলিমিটার কম এবং ১৯৮৬-১৯৯৫ দশকের চেয়ে ১৯২.৮ মিলিমিটার বেশি। (তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)।

 

গ্রাফচিত্র ১.১: বছর ভেদে বৃষ্টিপাতের পরিমান।                                                                    তথ্যসূত্র: আবহাওয়া অফিস

 

তাপমাত্রা

বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী অঞ্চলে বিগত ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৩১ বছরের বার্ষিক গড় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রাররেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায় ১৯৭৯-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারেকর্ড করা হয় ১৯৭৯ সালে ৩১.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৮৩ সালে ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারপরিমান ছিল ৩১.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমান ছিল ২০.৫৭ডিগ্রী সেলসিয়াস। ১৯৮৯-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারেকর্ড করা হয় ১৯৯২ সালে ৩১.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৮৯ সালে ১৯.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারপরিমান ছিল ৩১.২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমান ছিল ২০.০৬ডিগ্রী সেলসিয়াস। আবার ১৯৯৯-২০০৯ সাল পর্যন্ত এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারেকর্ড করা হয় ২০০৬ সালে ৩১.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৯৯ সালে ২০.১ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই দশকে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রারপরিমান ছিল ৩১.০৬ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমান ছিল ২০.৬৯ডিগ্রী সেলসিয়াস। সুতরাং ১৯৭৯-২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন দশকের তাপমাত্রার গড় থেকে দেখা যাচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পরিবেশগত পরিবর্তনেরই বহিঃপ্রকাশ।

টেবিল ১.৪:  ৩১ বছরের গড় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমান।

বছর

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (ডিগ্রী সেলসিয়াস)

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা(ডিগ্রী সেলসিয়াস)

বছর

সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (ডিগ্রী সেলসিয়াস)

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা(ডিগ্রী সেলসিয়াস)

১৯৭৯

৩১.৮

২১.১

১৯৯৫

৩১.২

২০.৬

১৯৮০

৩১.২

২০.৯

১৯৯৬

৩১.৫

২০.৫

১৯৮১

৩০.৫

২০.৫

১৯৯৭

৩০.৫

২০.২

১৯৮২

৩১.৭

২০.৩

১৯৯৮

৩০.৯

২০.১

১৯৮৩

৩০.৯

২০

১৯৯৯

৩১.৬

২০.১

১৯৮৪

৩০.৯

২০.২

২০০০

৩০.৭

২০.৬

১৯৮৫

৩১.৩

২০.৩

২০০১

৩১.২

২০.৫

১৯৮৬

৩১.

২০.১

২০০২

৩১

২০.৬

১৯৮৭

৩১.৫

২০.৫

২০০৩

৩০.৮

২০.৭

১৯৮৮

৩১.৪

২০.৪

২০০৪

৩১.১

২০.৭

১৯৮৯

৩১.৪

১৯.৪

২০০৫

৩১.৩

২০.৯

১৯৯০

৩০.৯

১৯.৬

২০০৬

৩১.৭

২১.

১৯৯১

৩১.৩

১৯.৮

২০০৭

৩২.

২১.১

১৯৯২

৩১.৬

১৯.৭

২০০৮

৩২.২

২১.২

১৯৯৩

৩১.১

২০.১

২০০৯

৩২.৫

২১.৩

১৯৯৪

৩১.১

২০.৪

 

 

 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর

ভূগর্ভস্থপানির স্তর

 

চিত্র ১.১১: পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা।

ভূমিরূপের ক্রমবর্ধমান পরিবর্তন, ভূ-গর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ব্যবহার এবং জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি অত্র এলাকার ভূ-প্রকৃতির ক্রমাবনতি ঘটিয়ে চলেছে।পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ লক্ষনগুলো এখনই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই অঞ্চলের জলবায়ুগত পরিবেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোন ভাবেই অনুকুল নয় বরং ক্রমেই তা ভয়ংকর রূপ ধারন করছে। বৃষ্টিপাতের ধারা আশংকাজনক হারে কমে যাওয়া, দিনের বেলা উত্তপ্ত আবহাওয়া একই সাথে রাতের শেষভাগে অধিকতর ঠাণ্ডা হয়ে আসা পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। যার প্রভাব ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরকেও প্রভাবিত করেছে। অত্র এলাকার ভূ-গর্ভস্থ পানির পুনঃযোজনের প্রধান অবলম্বন বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং একই সাথে পদ্মা নদীতে পানি কমে যাওয়া ও বনভূমির আয়তন হ্রাস পাওয়ার কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন তথা অনাবৃষ্টি ও মরুকরণ পরিস্থিতি এই অঞ্চলের ভূ-গর্ভস্থ পানির পুনঃযোজন প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়।

 

চিত্র ১.১২: উপজেলার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরের ডায়াগ্রাম।

অপরিকল্পিত কৃষি পদ্ধতি, অসামঞ্জস্য শস্য-বিন্যাস এবং সেচের জন্য ব্যপক হারে পানি উত্তোলনের ফলে খরা মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৬ মিটারের নীচে নেমে গেলে সাধারনভাবে প্রচলিত হস্তচালিত নলকুপে পানি ওঠে না। পবা উপজেলায় ভূগর্ভস্থপানির স্তর স্থান ভেদে উঠা নামা করে। বর্ষা মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে উঠে আসে। আবার এপ্রিল-মে মাসে তা সবচেয়ে গভীরে নেমে যায়। তবে সাধারানত ৫.৬ মিটার থেকে ২০.৫ মিটার এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পাওয়া যায়।

মাঘের শেষ সপ্তাহ হতে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে শতকরা ৫০ শতাংশ নলকূপ ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর না পেয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার গতি প্রকৃতি অনুসারে বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর প্রায় ২.৫০ ফুট ক্রমনিম্নমুখী হচ্ছে। ফলে যে সমস্ত নলকূপে ৩৫ থেকে ৯০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত অতি সহজেই পানি পাওয়া যেত সেগুলো অকেজো হয়ে চর ও গ্রামাঞ্চলে দেখা দিয়েছে অসহনীয় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এছাড়া পদ্মা নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকা, বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমে যাওয়া এবং মৌসুমী জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদী পানি সমস্যায় এই অঞ্চলের মানুষ ঝুঁকিগ্রস্থ অবস্থায় পতিত হচ্ছে। যার ফলে ভবিষ্যতে অনাকাংখিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করে। (তথ্যসূত্রঃ মাঠ পরিদর্শন, ২০১৪)

১.৪.৪ অন্যান্যসম্পদ

ভূমি ও ভূমির ব্যবহার

রাজশাহী জেলায় ১টি থানা ভূমি অফিস, ৯টি উপজেলা ভূমি অফিস, ৩৬টিইউনিয়ন ভূমিঅফিসরয়েছে।রাজশাহী জেলার মোট খাস জমির পরিমাণকৃষি ৬৯১৭.১০ একর, অকৃষি ২২৮০৪.৪৬৩১ একর, বন্দোবস্তকৃত খাস জমিকৃষি ৪৯৩৫.১১ একর, অকৃষি ২৮২.৩৯৭০ একর, যার মধ্যে মোট ফসলী জমি৫,৯৯,৫০৪ একর, আবাদী জমির পরিমাণ৩,৯২,৪১০ একর, সেচের আওতায় আছে ৩,০৩,৭৬৬ একর, অনাবাদী জমির পরিমাণ১,৭১,১৫৬ একর।  (তথ্য সূত্রঃ জেলা তথ্য বাতায়ন, ২০১৩)   

 

চিত্র ১.১৩: জেলার একটি কৃষিক্ষেত

কৃষি ও খাদ্য

রাজশাহী জেলার প্রধান প্রধান খাদ্যশস্য হচ্ছে আলু, আম,আখ,গম,ধান ইত্যাদি।সারাবছর ধান, গম,ভুট্টা,পাট,চাষ করা হয়। এরপরে যেসব কৃষিজাত দ্রব্যের নাম করতে হয় সেগুলো হচ্ছে মাসকলাই, মসুরি, ছোলা ইত্যাদি ডাল জাতীয় শস্য। তৈল বীজের মধ্যে রয়েছে  সরিষা ও তিল। এখানকার উল্লেখযোগ্য ফল হচ্ছে আম, তরমুজ, ক্ষীরা ইত্যাদি। মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, ধনে, আদা ইত্যাদি মসলা জাতীয় শস্য, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, উচ্ছে, করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুন্দুল, শিম, বরবটি, কাকরল, ঢেড়শ, গোল আলু, বেগুন, টমেটো ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি সবজি প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়। অন্যান্য উপজেলার চেয়েগোদাগাড়ী, তানোর, বাগমারা ওমোহনপুর উপজেলা শাক-সব্জি উৎপাদনে অনেক এগিয়ে রয়েছে। মোহনপুরও দুর্গাপুরউপজেলায় প্রচুর পান উৎপন্ন হয়। (তথ্য সূত্রঃ মাঠ পরিদর্শন, ২০১৪)

নদী

রাজশাহী জেলার উপর দিয়ে অনেকনদী প্রবাহিত হয়েছে।  দক্ষিণে পদ্মা,পশ্চিমে মহানন্দানদীএরমধ্যে অন্যতম।এর সাথে এতদঞ্চলের মানুষের অনেক সুখ দুঃখের লোক গাঁথা জড়িত রয়েছে।পদ্মার কড়াল গ্রাসে যেমন বিলীন হয়েছে অনেক মানুষের সহায় সম্বল তেমনি একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জীবিকা নিবার্হ করছে অনেক মানুষ।নদীটি এতদঞ্চলের কৃষি,জীব বৈচিত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।এ ছাড়া পর্যটক সহ তরুন তরুনীরা বিনোদনের উদ্দেশ্যে এই নদীতে নৌকায় বিচরণ করে থাকে।এছাড়া অন্যান্য নদীগুলোর মদ্ধে বারনই, জহাখালী, হোজা, ফকিরনী, শিব উল্লেখযোগ্য।  (তথ্য সূত্রঃ মাঠ পরিদর্শন, ২০১৪)

লবণাক্ততা

রাজশাহী জেলায় লবনাক্ততার কোন প্রভাব নাই। (তথ্য সূত্রঃ মাঠ পরিদর্শন, ২০১৪)

আর্সেনিক দুষণ

বাংলাদেশের অন্যান্য অনেক  এলাকার মতো এইপরাজশাহী জেলায়ও আর্সেনিক এর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান সময় পর্যন্ত১৬ হাজার ২০৬টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১৪ হাজার ৮৪৬টি আর্সেনিক মুক্ত এবং ১ হাজার ৩৫০ টিতে আর্সেনিক এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪০জন পুরুষ ও১৪৩ জন নারীকে আর্সেনিক আক্রান্ত হসেবে তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে।এঅঞ্চলেরআঞ্চলিক গবেষনাগার সমূহে নির্দিষ্ট ফি প্রদান সাপেক্ষে নলকূপের পানির আর্সেনিক,ক্লোরাইড, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, পিএইচ, ইলেকট্রিক কন্ডাকটিভিটি ইত্যাদি পরীক্ষা ও বিভিন্ন ধরনের বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করাহয়।ফিল্ড কিটস্ এর মাধ্যমেওবিনামূল্যে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকরা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Rajshahi_Chapter2_Bangla Report.docx Rajshahi_Chapter2_Bangla Report.docx
Rajshahi_Chapter3_Bangla Report.docx Rajshahi_Chapter3_Bangla Report.docx
Rajshahi_Chapter4_Bangla Report.docx Rajshahi_Chapter4_Bangla Report.docx
Rajshahi_Chapter5_Bangla Report.docx Rajshahi_Chapter5_Bangla Report.docx
Rajshahi_Table of contents_Bangla Report.docx Rajshahi_Table of contents_Bangla Report.docx
Rajshahi District DM Plan_Part 1.pdf Rajshahi District DM Plan_Part 1.pdf
Rajshahi District DM Plan_Part 2.pdf Rajshahi District DM Plan_Part 2.pdf